মুহাররম মাসের ফজিলত - আশুরারা দিনের ইবাদাত

মুহাররম মাসটি অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ মাসটি আমাদের কাটানো উচিত ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে। এই মুহাররম মাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন রয়েছে যাকে বলা হয় আশুরার দিন এই দিনে ইবাদত করলে অর্শের সওয়াবের হওয়া যায়। তবে এর জন্য আমাদেরকে জানতে হবে মুহাররম মাসের ফজিলত এবং আশুরার দিনের এবাদত সম্পর্কে।

এই পোস্টে আমরা বিশেষত আলোচনা করব মুহাররম মাসের ফজিলত এবং আশুরারা  দিনের ইবাদাত সম্পর্কে, এছাড়াও এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আশুরা কত তারিখে পালন করা হয়, আশুরার দিবাগত রাতের ইবাদত , আশুরার দিনে পাঠ করার দোয়া সম্পর্কে। আশুরার দিন সম্পর্কে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানতে হলে দেরি না করে এই পোস্টটি পড়ুন।

সূচিপত্রঃ মুহাররম মাসের ফজিলত - আশুরারা দিনের ইবাদাত

মুহাররম মাসের ফজিলত

মুহাররম হলো আরবি প্রথম মাস এবং এই মুহাররম মাসের ফজলত অনেক বেশি।এই মাসে ইবাদাত করলে অশেষ সওয়াবের অধিকারি হওয়া যায়।আজকে আমরা আলোচনা করবো মুহাররম মাসের ফজিলত নিয়ে।একজন মুসলমা হিসেবে  পবিত্র মুহাররম মাসের ফজিলত সম্পর্কে জেনে রাখা খুবই জরুরী , তাই চলুন মুহাররম মাসের ফজিলত সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। মুহাররম মাসের মধ্যে অত্যন্ত পবিত্র এবং বরকতময় একটি দিন রয়েছে যেটি হল আশুরার দিন।

আশুরার দিনে আল্লাহতালা লাওহে মাহফুজে যাবতীয় সৃষ্টি জীবের রূপ পয়দা করেন। এই আশুরার দিনেই আল্লাহতালা পৃথিবীর যাবতীয় নদ নদী সাগর মহাসাগর পাহাড়-পর্বত গাছপালা সৃষ্টি করেছিলেন এবং এই দিনেই সবকিছু ধ্বংস হবে। এই পবিত্র দিনেই আল্লাহপাক হযরত আদম আলাই সাল্লাম কে পয়দা করেন এবং তাকে  চির সুখের স্থান দান করেছিলেন এবং পৃথিবীতে পাঠানোর প্রায় ৩০০ বছর পরে তার তওবা কবুল করেছিলেন এই আশুরার দিনেই।

আশুরার এই পবিত্রতম দিনেই আল্লাহপাক ইউনুস আলাইহিস সালামকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দান করেন এবং মুসা (আঃ) তুর পর্বতে তৌরাত কিতাব প্রাপ্ত হন এই দিনেই। আশুরার এই দিনেই বনী ইসরাঈলদের নিয়ে হযরত মুসা (আ) নীলনদ করেন এবং ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি পান। থেকে আল্লাহপাক প্রথম বৃষ্টি বর্ষণ করিয়েছিলেন মহররম মাসের এই দিনে।

আরো পড়ুনঃ আজানের জবাব দেওয়ার গুরুত্ব

মহররম মাসের আশুরার এই দিনেই ঈসা আলাই সাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ৩৩ বছর বয়সে এই দিনেই আল্লাহ পাক তাকে আসমানে উঠিয়ে নেন , হযরত ইয়াকুব (আ) এই পবিত্র দিনে রোগ মুক্তি লাভ করেন এবং ধনসম্পদ খিদে পেয়েছিলেন। পবিত্র এই দিনেই ইয়াকুব আলাই সালাম তার প্রাণপ্রিয় হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফিরে পেয়েছিলেন। পবিত্র এই দিনে আল্লাহতালা হযরত ইব্রাহিম আলাই সালাম কে পয়দা করেছিলেন এবং এই দিনেই জাহান্নামের কিট নমরুদের অগ্নিকাণ্ড থেকে তাকে রক্ষা করেছিলেন এবং নুহ আলাই সাল্লাম তার স্বল্পসংখ্যক অনুসারীকে নিয়ে মহাপ্লবন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

আশুরা কত তারিখে পালন করা হয়

মুহাররম মাসের মধ্যে একটি অতি পবিত্র দিন রয়েছে যেই দিনটিকে বলা হয় আশুরা। আশুরার দিনে নফল ইবাদত এর মাধ্যমে কাটালে অশেষ সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। তবে ইবাদত বন্দেগীর মধ্যেই আশুরার দিনটিকে কাটাতে হলে অবশ্যই জানতে হবে আশুরা কত তারিখে পালন করা হয়। তাই আজকে আমরা সঠিকভাবে জানবো আশুরা কত তারিখে পালন করা হয়। মুহাররম হল আরবি নববর্ষ অর্থাৎ আরবি বছরের শুরুর মাসটিকে বলা মুহাররম , আর এই মুহাররম মাসের ১০ তারিখে পালন করা হয় পবিত্র আশুরা। আশুরার এই পবিত্র দিনে ঘটে যাওয়া অনেক আশ্চর্যজনক কাহিনী রয়েছে এছাড়াও আশুরার এই পবিত্র দিনে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেন (রা) এজিদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন।

আশুরারা  দিনের ইবাদাত

আশুরার দিনের ইবাদতের মর্যাদা অনেক বেশি ,তাই আজকে আমরা আলোচনা আশুরারা  দিনের ইবাদাত নিয়ে। এখনো হয়তো অনেক মানুষ আছেন যারা আশুরার দিনের ইবাদত সম্পর্কে জানেন না। তাই আজকে আমরা যে সকল মানুষ আশুরার দিনের ইবাদত সম্পর্কে জানেন না তাদের উদ্দেশ্যে বর্ণনা করব আশুরার দিনের ইবাদত সমূহ গুলো নিয়ে। তাহলে চলুন আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক আশুরার দিনের ইবাদত গুলো

হাদীসে বর্ণিত আছে , যে ব্যক্তি আশুরার দিন অর্থাৎ মহররমের ১০ তারিখে রোযা রাখে, সে ৬০ বছর রোযা ও রাত্রের ইবাদত করার সওয়ার লাভ করে।আশুরার দিন দুই রাকার দুই রাকাত করে ৪ রাকাত নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা, সুরা ঝিলঝাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস একবার পড়ে নামাযান্তে দরুদ শরীফ ৭০ বার পড়ে কারবালার শহীদগণের রুহ মোবারকে সওয়াব রেসানী করে দেবে। এতে শহীদের দরজা লাভ হবে এবং কারবালার শহীদগণের সুপারিশ লাভ হবে। ( গুনিয়াতুত্তালেবীন- ২৮৫ পৃঃ)
হাদীস শরীফে আরও বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি এ দিনে ৪রাকাত নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা, সূরা ঝিলঝাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা এখলাস একবার করে পড়ে এবং নামাযান্তে ১০০ বার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তাকে রোজ কিয়ামতে সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রাখে।হাদীস শরীফে আরো বলা আছে, যে ব্যক্তি এদিন অর্থাৎ আশুরার দিনে ৪ রাকাত নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা একবার, সূরা এখলাস ১৫ বার পড়ে কারবালার শহীদগণের রূহ মোবারকে সওয়াব পৌঁছে দেবে শহীদগণ বিশেষ করে হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) তার মুক্তির ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবেন। এ মাসের কমসে কম ২টি রোযা রাখবে একটি আশুরার দিন ও অপরটি তার আগের দিন, তাহলে ইহুদি নাসারাদের বিরোধীতা করা হবে।

আশুরারা দিবাগত রাতের ইবাদত

আশুরার দিবাগত রাতের ইবাদতের ফজিলত অনেক বেশি এই কারণে আমাদের সকলেরই উচিত আশুরার দিবাগত রাত্রি ইবাদত বন্দগির মধ্যে দিয়ে কাটানো এবং আশুরারা দিবাগত রাতের ইবাদত সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে রাখা। এই পবিত্র রাত্রি ইবাদতের মাধ্যমে কাটানোর জন্য আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে , এই রাত্রে কোন কোন বিশেষ ইবাদত গুলো করার মাধ্যমে অশেষ সওয়াব হাসিল করা যায়। তাই চলুন আজকে আমরা আশুরারা দিবাগত রাতের ইবাদত সম্পর্কে জেনে নিই।

আরো পড়ুনঃ শবে কদরের রাত্রির গুরুত্ব

বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানতে পারা যায় যে আশুরার দিবাগত রাত্রে ৫০ রাকাত সম্ভব হলে আরও বেশি নফল নামাজের প্রত্যেক রাকাতে হাতিহার করে সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করতে হয় এবং মোনাজাতের সময় হযরত হোসাইন (রা) এবং কারবালায় শহীদ হওয়া সকল রুহের উপরে সওয়াব রেসানি করতে হয়। এই পবিত্র রাত জেগে তসবি তাহলিল , ইস্তেগফার, কোরআন তেলাওয়াত , দোয়া-দরুদ পাঠ করার মাধ্যমে অশেষ সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়

জানতে পারা যায় যে যে ব্যক্তি আশুরার রাতে সুবহে সাদিকের পূর্বে চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে এবং প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা ওয়া আতুককে একবার এবং সূরা ইখলাস তিনবার পড়ে নামাজ শেষে সূরা ইখলাস আরো ১০ বার করে কারবালা শহীদদের রুহের উপর সওয়াব রেসানী করে তাহলে তার আমলনামায় আল্লাহর হুকুমে অশেষ সওয়াব লেখা হয়।

আশুরার দিবাগত রাত্রে চার রাকাত নামাজে সূরা ফাতিহা একবার ও সূরা ইখলাস ৫০০ পাঠ করে নামাজ পড়লে তার উপরে আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত নাযিল হয় এবং এর ফলে অনেক সওয়াব লাভ করা যায় ।

আশুরারা  দিনে পাঠ কারার দোয়া

আশুরার দিনে পাঠ করার একটি বিশেষ দোয়া আছে যেই দোয়াটি পাঠ করলে অশেষ সওয়াবের অধিকারী হওয়া যাবে এবং এই দোয়ার ফজিলত অনেক বেশি।এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে সওয়াবের অধিকারী হতে হলে অবশ্যই আপনাকে আশুরারা  দিনে পাঠ কারার দোয়া সম্পর্কে জানতে হবে। তাই আজকে আপনাদে এখন জানাবো আশুরারা  দিনে পাঠ কারার দোয়া টি। চলুন তাহলে আর দেরি না করে দিলে নেওয়া যাক বিশেষ এই দোয়াটি।

উচ্চারণঃ লা-ই-লাহা ইল্লাল্লাহু আলিয়্যিল আ'লা। লা-ই-লাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামা ওয়াতে ওয়াল আরদে ওয়ামা বাইনাহুম ওয়ামা তাহতাছ ছারা। আল্লাহুম্মাজ আল না মিম্মান দায়াকা ফা আযাবতাহু ওয়া আমানা বিকা ফাহাইতাহু। ওয়া রাগিবা ইলাইকা ফা আ'তাইতাহু ওয়া তাওয়াক্কাল আলাইকা ফা-আকফাইতাহু। ওয়াকতারাবা মিনকা ফা আদ নাইতাহু। আল্লাহুম্মা ইন্না নাস আলুকাল ঈমানাম্বিকা ওয়াল আখিরাতে, ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।

অর্থঃ শুরু করছি পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালার নামে। সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত আর কেহই উপাস্য নাই। সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেহই মাবুদ নেই, হে আল্লাহ! সকল প্রার্থনাকারীর দোয়া ও মুনাজাত তুমি কবুল করেছ। আমাকেও তাদের দলে সামিল করে নাও, যাদেরকে তুমি তোমার প্রতি ঈমান আনার ফলে সত্যের সন্ধান দিয়েছ আর তোমার দিকে আকৃষ্ট হওয়ার ফলে যাদের তুমি স্বীয় নেয়ামত দান করেছ এবং তোমার ওপর ভরসা করার ফলে যাদেরকে তুমি প্রাচুর্য দান করেছ আর তোমার নৈকট্য লাভ করতে অভিলাষ করার জন্য যাদেরকে তুমি স্বীয় নৈকট্য ও দীদার দান করেছ। হে আল্লাহ! আমার জীবিকা নির্বাহের ব্যপারে তুমি আমার জন্য ভালোবাসা জন্মিয়ে দাও। হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে পূর্ণ ঈমান, হালাল রিযিক, দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। হে রাহমানুর রাহিম! তুমি এ বান্দার প্রার্থনা কবুল কর।
মন্তব্য , এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনারা মুহাররম মাসের ফজিলত এবং আশুরারা  দিনের ইবাদাত সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিয়েছেন। আশুরার দিন যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ সুতরাং আমাদের কখনোই উচিত না এই দিনটিকে অবহেলায় কাটানো । তাই অবশ্যই আশুরার দিনটি বিভিন্ন ধরনের নকল ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটান এবং অশেষ সওয়াবের অধিকার হন। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সঠিকভাবে এই দিনটি কাটানোর তৌফিক দান করুন (আমিন)।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url